← Back
📚 Book

দেবী — হুমায়ূন আহমেদ

3 min read

'দেবী', নামটা শুনলে দুটো জিনিস মাথায় আসে। প্রথমত, অতিপ্রাকৃতিক কোন জিনিস; দ্বিতীয়ত, খুব সুন্দরী কোন নারী। হুমায়ূন আহমেদের দেবী উপন্যাস এই দুটিরই সমন্বয়। সেই সাথে এটি মিসির আলি সিরিজের একটি বই।

উপন্যাসে দেবী সম্পর্কিত চরিত্রটি হলো 'রানু', অতিশয় সুন্দরী। রানুর ছোটবেলায় ঘটে যাওয়া একটি ঘটনা তার জীবনে একটি অস্বাভাবিক পরিবর্তন এনে দেয়। রানু হঠাৎ হঠাৎ অতিপ্রাকৃতিক কিছু আচ করেন। এমনকি সে স্বপ্ন কিংবা কল্পনায় নিকট ভবিষ্যত দেখতে পায়। যেটিকে রানুর স্ট্রং ইএসপি পাওয়ার হিসেবেও বলা হয়েছে কিন্তু এইসব ঘটনায় রানুর জীবন যথেষ্ট অস্বাভাবিক হয়ে পড়ে।

মিসির আলি সাহেব ক্লিনিক্যাল সাইকিয়াট্রির শিক্ষক। রানুর এই রোগ(সমস্যার) সমাধান করার চেষ্টা করেন। তিনি এটিকে অতিপ্রাকৃতিক বিষয় মানতে রাজী নন, ফলে তিনি সমস্যাটির একটি সাইকোলজিক্যাল ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করেন।

রানুর পাশাপাশি আরেকটি উল্লেখযোগ্য চরিত্র হলো নীলু। যে অদেখা একজন ব্যক্তির সাথে চিঠি আদান প্রদানের মাধ্যমে প্রেমে পড়ে যান। যে প্রেমের উল্লেখ উপন্যাসকে আরেকটি জীবন দিয়েছে। কিন্তু সেই প্রেম একসময় তার বিপদের কারন হয়ে দাড়ায়। বিপদ ঘটার আগে রানু তার সাথের অতিপ্রাকৃতিক উপস্থিতি কিংবা ইএসপি পাওয়ারের মাধ্যমে বুঝতে পারেন ও তাকে বাঁচানোর জন্য ব্যাকুল হয়ে যান। শেষমেষ রানু, নীলু আর সেই অশরীরী যেন একই সুতোই গাথা হয়ে যায়।

পড়তে পড়তে বার বার মনে হয়েছে এই অতিপ্রাকৃতিক ঘটনার কোন একটা ব্যাখ্যা আসা দরকার এবং আসবে। যা শেষ অব্দি ব্যাখ্যা ছাড়াই সমাপ্ত হলো। রানুর ঘটনা যখনই উল্লেখ হয়েছে তখনই পাঠক হিসেবে আমার মনে হয়েছে মেয়েটা ট্রমাটাইজ। যা মিসির আলীও ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু ট্রমা কি ভবিষ্যত দেখতে পারে? লেখক যেন সচেতনভাবেই কোন চূড়ান্ত ব্যাখ্যা দেন নি, হয়তো সেটিই এই বইয়ের সৌন্দর্য।

বই থেকে কয়েকটি উদ্ধৃতি:

মানুষের বয়স হচ্ছে তার মনে। মন যত দিন কাঁচা থাকে, তত দিন মানুষের বয়স বাড়ে না।

মানুষের সব শখ মেটা উচিত নয়। একটা কোন ডিসস্যাটিসফেকশন থাকা দরকার। 'কেন?' 'তাহলে বেঁচে থাকতে ইচ্ছে করে। সব শখ মিটে গেলে বেঁচে থাকার প্রেরণা নষ্ট হয়ে যায়। যে-সব মানুষের শখ মিটে গেছে, তারা খুব অসুখী মানুষ।

মৃত্যুর সময় পাশে কেউ থাকবে না, এর চেয়ে ভয়াবহ বোধহয় আর কিছু নেই। শেষ বিদায় নেবার সময় অন্তত কোনো-একজন মানুষকে বলে যাওয়া দরকার। নিৎসঙ্গ ঘর থেকে একা-একা চলে যাওয়া যায় না। যাওয়া উচিত নয়। এটা হৃদয়হীন ব্যাপার।

বইটির আরেকটি সিক্যুয়েল 'নিশীথিনী' আছে। সেটিও অতি দ্রুত পড়ার ইচ্ছে রেখে দিলাম।