← Back
💡 Misc

'কষ্টের বই' ও বইমেলা ২০২৬

3 min read

   অল্প সময়ের পরিকল্পনা; নাহিদ, আকাশ, তাজরুল, ফুয়াদ, কৃষ্ণ, রবিউল, সাইফুল, ইমরান ও আকাশের দুজন কলিগ (নাঈম ভাই, আরেকজনের নাম মনে করতে পারছি না) জোট বাঁধলাম। ইফতারের আয়োজন— আইইবি প্রাঙ্গণে (আকাশের কর্মস্থল; আকাশ সেখানকার স্বনামধন্য এমপ্লয়ী)। ইফতার করা হলো। আইইবির পাশেই যেহেতু বইমেলা হচ্ছে, ইফতার শেষে চলে গেলাম বইমেলায়।

এবারের বইমেলা হচ্ছে শুনশান নিরবতায়। লোকজন নেই বললেই চলে। এতে অবশ্য কিছু সুবিধাও আছে। যেমন— সংকোচ ছাড়া দীর্ঘ সময় নিয়ে বই নেড়ে-চেড়ে দেখার সুযোগ পাওয়া যাচ্ছে, স্টলের সামনে বিভিন্ন পোজ দিয়ে ছবি তোলা যাচ্ছে। একপাশে একটা মঞ্চ দেখা যাচ্ছে, 'লেখক সমাবেশ' না কি যেন। মঞ্চের সামনে অনেকগুলো চেয়ার, দর্শকের জন্য। মঞ্চের ওপর লেখক/কবি বসে কথা বলবেন, দর্শক-শ্রোতা সামনের চেয়ারে বসে সেটা শুনবেন। এক-দুজন লেখক/কবি সেখানে বসে কথা বলছেন ঠিকই, কিন্তু সামনে দর্শক-শ্রোতা নেই। তবে তাঁদের হতাশ হওয়ার কিছু নেই। যেহেতু মাইকে কথা বলছেন, সে হিসেবে মেলার সবাই শ্রোতা। রেডিওতে কথা বলছেন— এমন ভেবে নিলেই হয়।

স্টল ঘুরে দেখছি। কয়েকটা বই মনে মনে ঠিক করে গেছি— কিনব বলে। কিন্তু সেগুলো কিনতে হবে শেষে। আগে কিনলে মেলা ঘোরা হবে না। সবাই তাড়া দেওয়া শুরু করবে। তাই স্টল ঘুরছি, বই দেখছি। আমার কাছে বইমেলার সবথেকে উপভোগ্য বিষয়গুলোর একটি হলো বইয়ের কভার দেখা। সুন্দর সুন্দর কভার। অনেক কভার দেখলাম।

ঘুরতে ঘুরতে এবার চলে গেলাম 'পাঞ্জেরী পাবলিকেশন্স'-এর স্টলে। পাঞ্জেরী পাবলিকেশন্সে কিছু মিনি সাইজের বই পাওয়া যায়। একদম মিনি, বড় জোর এক-দেড় ইঞ্চি সাইজের। নাম 'প্রেমের অণুকাব্য—দন্ত্যস রওশন'; এরকম আরও দু-একটা নাম আছে। মজার মজার কবিতা লেখা। গত বইমেলায় আকাশ এই বই কিনেছিল। বাসায় এনে সবার আগ্রহের শেষ ছিল না সেই বইয়ের উপর। এবারও আমাদের মধ্যে কয়েকজন এর কিছু কপি সংগ্রহ করল।

স্টলের এক কোণে দাঁড়িয়ে নাহিদ কী যেন ভাবছে। কিছুক্ষণ পর নীরবতা ভেঙে সেলসপার্সন ভদ্রমহিলাকে বলল—

  আপনাদের কাছে কি কষ্টের বই আছে? দেখান তো দুই-একটা।

দোকানে থাকা ভদ্রমহিলা নাহিদের চাহিদা শুনে ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গেলেন। এক মিনিট নীরব হয়ে তাকিয়ে থেকে কী যেন ভাবলেন। তারপর হাসি চেপে রেখে, দুঃখিত হওয়ার ভান করে বললেন—

  স্যার, এ রকম ছোট কষ্টের বই তো নেই।

  ও।


যেন নাহিদের মন আরও খারাপ হলো। পাঞ্জেরী পাবলিকেশন্স তো চাইলেই এ রকম কিছু কষ্টের বই আনতে পারত। সেলসপার্সনরা স্টলের সামনে লোক দেখলেই বলে— স্যার, কী ধরনের বই খুঁজছেন? মানুষ তো তখন এই ধরনের বই চাইতেই পারে। এটা কোন কথা!

ভদ্রমহিলা এবার নিজ থেকেই আগ্রহ নিয়ে বললেন—

  স্যার, বড় কষ্টের বই আছে। আপনি চাইলে আমি দেখাতে পারি।

  বড় কষ্টের বই? কিন্তু বড় কষ্ট তো সহ্য করা কঠিন!

  সরি স্যার।

ভদ্রমহিলা বিশেষ শক খেলেন। মনে হয় এ ধরনের প্রশ্ন বা উত্তর তিনি জীবনে শোনেননি। তবে নাহিদ অবশ্য এ ধরনের প্রশ্ন মাঝে-মধ্যেই করে বসে। আমরা জানি। আমরা মনে মনে খুব হাসলাম।

অতঃপর কয়েকটি স্টল ঘুরে ঘুরে লিস্ট করা বইগুলো সংগ্রহ করে চলে এলাম বাসায়। কষ্টের সেই ছোট বই আর নেওয়া হলো না।

পাঞ্জেরী পাবলিকেশন্সের কাছে আবদার রইল— সামনের বইমেলায় যেন দু-একটা 'ছোট কষ্টের' বই নিয়ে আসেন।